সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
অস্ট্রেলিয়ার নাটকীয় জয়ে সহজ ম্যাচকে কঠিন করে দেওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত স্বস্তির সঙ্গে মাঠ ত্যাগ করে অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ের নায়ক হলেন মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স, যাদের মুখে আনন্দের ঝিলিক ছিল। গতকাল মেলবোর্নে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে প্যাট কামিন্স বল হাতে নয়, ব্যাট হাতে ব্যতিক্রমীভাবে উঠে এসেছেন। নয় নম্বরে নেমে দুর্দান্ত ৩২ রানের ইনিংস খেলে তিনি হেরে যাওয়া ম্যাচটিকে পাকিস্তানের হাত থেকে নিয়ে আসেন এবং দলের জয় নিশ্চিত করেন। ফলে স্বাগতিকরা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে। ম্যাচসেরার খেতাব জিতে নিয়েছেন পেসার মিচেল স্টার্ক। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই জয়ে অস্ট্রেলিয়া একটি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এতদিন ওয়ানডে ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৭১টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এই ম্যাচের জয়ের ফলে ক্যারিবীয়দের রেকর্ডের পাশে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তারা ১০৯ ম্যাচ খেলে এই জয় পেয়েছে, অন্যদিকে উইন্ডিজ খেলেছে ১৩৭ ম্যাচ।
২০৪ রানের টার্গেট নিয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়া প্রথম চার ওভারেই দুই ওপেনারকে হারায়। ম্যাথু শর্ট ১ ও জ্যাক-ফ্রেজার ম্যাকগার্ক ১৬ রানে ফিরে যান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে স্টিভেন স্মিথ ও জশ ইংলিশ পাকিস্তানের বোলারদের বিরুদ্ধে তাণ্ডব চালান। ৭৫ বলে গড়েন ৮৫ রানের জুটি, যা অস্ট্রেলিয়ার স্কোরকে তিন অংকের ঘরে নিয়ে যায়। স্মিথ ৪৪ রানে বিদায় নেন, যেটা পাকিস্তানকে ব্রেক-থ্রু এনে দেয় হারিস রউফের মাধ্যমে। ইংলিশকে ৪৯ রানে আউট করে পাকিস্তানকে খেলার মধ্যে ফেরান সেরা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি।
এরপর রউফ ও মোহাম্মদ হাসনাইন ১৬ রানের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার আরও তিন উইকেট তুলে নেন। রউফের বলে মার্নাস লাবুশান ১৬ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল গোল্ডেন ডাক মারেন। হাসনাইন অ্যারন হার্ডিককে ১০ রানে ফিরিয়ে দেন।
অষ্টম উইকেটে কামিন্স সিন অ্যাবটের সঙ্গে ২৭ বলে ৩০ রান যোগ করেন, যা এক বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমে। অ্যাবট ১৩ রানে বিদায় নেন। নবম উইকেটে স্টার্কের সঙ্গে জুটি বেঁধে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন কামিন্স। তিনি ৪টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৩২ ও স্টার্ক ২ রানে অপরাজিত থাকেন। রউফ ৩ ও আফ্রিদি ২ উইকেট পান।
এর আগে, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ২৪ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারায়। অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের শিকার হয়ে আব্দুল্লাহ শফিক ১২ ও সাইম আইয়ুব ১ রানে সাজঘরে ফেরেন।
তৃতীয় উইকেটে সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম ও বর্তমান অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান ৩৯ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন। বাবর ৪টি চারে ৩৭ রান করে আউট হন, যা অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার এডাম জাম্পার মাধ্যমে সম্ভব হয়।
বাবরের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়ে ৪৬.৪ ওভারে ২০৩ রানে অলআউট হয় তারা। শেষদিকে নাসিম শাহ ১টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪০ রানে কোনো মতে ২০০ পার করেন।